1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৭:৩০ অপরাহ্ন

আমার মেয়ের হাড্ডি ভিক্ষা দাও। হাড্ডি লইয়া দেশে যামুগা

স্টাফ রিপোর্টার
  • সময় : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ৫১৯ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘আমার মেয়ের হাড্ডি ভিক্ষা দাও। হাড্ডি লইয়া দেশে যামুগা। আমার মেয়ে আর বলবে না আব্বা আমারে দশটা টাকা দাও।

 

দোজখের আগুন উঠে গেছে দেশে। আমার কলিজার টুকরা পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। আমার দুনিয়াতে কেউই রইলো না। আমার বুকে ব্যথা লাগে স্যার। আমার মেয়ের হাড়গুলো ভিক্ষা দেন। দেশে নিয়া হাড়গুলো বুকে জড়িয়ে রাখমু।’

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এভাবেই মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছিলেন বেল্লাল হোসেন। তার মেয়ে মিতু আক্তার (১৪) কাজ করতো হাসেম ফুডের কারখানায়।

 

অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে আর মিতুর খোঁজ মিলছে না। স্বজনদের ধারণা ঢাকা মেডিকেলে যাদের লাশ আনা হয়েছে তাদের মধ্যে মিতুর লাশও আছে।

 

তবে পুড়ে যাওয়া মানুষগুলোকেতো আর চেহারা দেখে চেনার উপায় নেই। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।

 

তাদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার পরিবেশ। বেল্লাল হোসেন বলেন, মিতু সকাল সাতটায় আমার কাছ থেকে দশটা টাকা নিয়ে যায়। আর আমার মেয়ে দশ টাকা চাইবে না।

 

মেয়ের ছবি বুকে জড়িয়ে ধরে তিনি বলেন, আমার মেয়ের কি সুন্দর ছবি। কিন্তু মেয়ে পুড়ে কয়লা হয়ে কই আছে। সে নিখোঁজ। তার কঙ্কাল পড়ে আছে কই?

 

বেল্লাল হোসেন বলেন, আমার মেয়ে ক্লাস এইটে ওঠার পরে স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। স্কুল বন্ধ থাকায় সে চাকরিতে যায়। আঠারো বছর ধরে ঢাকায় থাকি। আমার মেয়ে বলে, আব্বা আমার কোনো ভাই নেই।

 

আমরা দুই বোনে যদি কিছু কামাই করে টাকা দিতে পারি তোমার কিছুটা অভাব কমবে। তোমার তো ইনকাম করতে কষ্ট হয়। আমরা দুই বোন চাকরি করি। স্কুল খুললে আবার ছেড়ে দিব।

 

দুই বোনে চাকরি করলে তোমার অভাব থাকবে না। টাকা গুছিয়ে আমরা একেবারে গ্রামের বাড়িতে চলে যাবো। তিনি আরও বলেন, মেয়ে আমার তিনমাস ধরে কাজে লাগছে।

 

দুই মেয়ে একসঙ্গে সেখানে কাজ করতো। মেয়েরা ভেবেছিল কিছু টাকা পেলে কেনাকাটা করে বাড়িতে চলে যাবো।

 

বেল্লাল জানান, তার তিন মেয়ের মধ্যে মিতু ছিল দ্বিতীয়। ছোট মেয়ের বয়স আড়াই বছর। বড় মেয়ে খাদিজা আক্তারও সেখানে চাকরি করতেন। নাইট ডিউটি থাকায় বাসায় ছিলেন। মাসে পাঁচ হাজার তিনশত টাকা বেতন ছিল মিতুর।


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা