1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৭:১৬ অপরাহ্ন

ইবাদত এর সঠিক পরিচয় ও আমাদের ধারণা

আব্দুল মজিদ মারুফ  (লেখক)
  • সময় : শুক্রবার, ৭ মে, ২০২১
  • ২৮০ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কোরআন শরীফ কে কোরআনের ধারাবাহিকতা অনুসারে যে ভাবে সাজানো হয়েছে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে কোরআন শরীফের দ্বিতীয় তম সূরা হলো সূরা বাকারা। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সূরা ফাতিহার মধ্যে কোন কাজের আদেশ করে নাই সর্বপ্রথম আদেশ করেছেন সুরা বাকারার মধ্যে।
সুরা বাকারার মধ্যে সর্বপ্রথম যে আদেশটি করেছেন সেটি হচ্ছে “হে মানবসকল তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো।” আমরা সকলেই জানি আমাদের রব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা সেই মহান রবের এবাদত এর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এটি আমাদের জন্য কোরআন শরীফের প্রথম নির্দেশ তাই এই নির্দেশ আমাদের পালন করতেই হবে। আর এই নির্দেশ পালন করতে হলে এ সম্পর্কে আমাদের জানতে হবে।  আমাদের ইবাদত এর পরিধি ইবাদতের পরিচয় সঠিকভাবে জানার চেষ্টা করতে হবে। এখন আমরা ইবাদতের পরিচয় এবং বিস্তারিত পরিধি জানার চেষ্টা করব।
ইবাদত কাকে বলে?
আমরা মনে করে থাকি সুনির্দিষ্ট সময়ে সুনির্দিষ্ট নিয়মে আল্লাহর কিছু বিধান পালন করার নাম ইবাদত। যেমন আমরা নামায-রোযা হজ্ব-যাকাত এ সকল কাজকে ইবাদত বলে মনে করে থাকি।
ইবাদাত আরবী শব্দ। আরবী ভাষার শব্দ হলেও সকল ভাষাভাষী মুসলিমের কাছেই এটি অতীব পরিচিত। এটি একটি প্রসিদ্ধ ইসলামী পরিভাষা। শুধু সকল ভাষাভাষী মুসলিমরা জানে এমনটি নয় বরং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নাস্তিক সম্প্রদায়ও এ শব্দটির সম্পর্কে জানে। আল কোরআনে এ শব্দটি বিভিন্নভাবে মোট ২৭৬ বার উল্লেখিত হয়েছে।
ইবাদাত শব্দটি  عبد  (আবাদা)  مصدر তথা  শব্দের ক্রীয়ামূল; যার অর্থ আনুগত্য করা, দাসত্ব করা, গোলামী করা, বিনয়ী হওয়া, অনুগত হওয়া, মেনে চলা ইত্যাদি।
 ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহর একত্ববাদকে মান্য করে চলার নামই ইবাদাত। এর বাইরে বা বিপরীতে যা ‍কিছু করা হোক না কেন, তা ইবাদাত বলে গণ্য হবে না।
ইমাম কুরতুবী (র:) বলেন,
ইবাদাত হলো মহান আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা দেওয়া এবং তার দ্বীনের বিধান সমূহের অনুসরণ করা, আর ইবাদাতের মূল হলো বিনয় এবং নিজেকে তুচ্ছ করে প্রকাশ করা।
আল্লামা ইবনে কাসির (র:) বলেন,
ইবাদাতের শাব্দিক অর্থ হল নমনীয়তা। আর পারিভাষিক অর্থে ইবাদাত বলা হয় পরিপূর্ণ ভীতি, বিনয় ও ভালবাসার সমষ্টিকে।
আবুল আলা মওদূদী (র:) বলেন,
ইবাদাতের মূল কথা হল কোন সত্ত্বার বড়ত্বকে মাথা পেতে নেয়া, অতঃপর তার সামনে নিজের স্বাধীনতাকে বিলীন করে দেয়া। অর্থাৎ তার আনুগত্যকে বরণ করে নেয়া।
 আল্লাহ পছন্দ করেন এমন যেকোন কথা বা কাজ করাকে ইবাদত বলে। চাই তা প্রকাশ্যে হউক বা গোপনে হউক।
                    : ইমাম ইবনে তাইয়িমিয়া।
এখানে আমরা বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামিক স্কলার, ইসলামী গবেষকদের বিভিন্ন দেওয়া বিভিন্ন সংজ্ঞা জানলাম। উপরোক্ত পরিভাষা গুলোকে আমরা যদি আরও একটু বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করতে চাই তাহলে ইবাদত এর বিস্তৃতি বেরিয়ে আসে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সুনির্দিষ্ট আনুগত্যের নাম। নিজের জীবনের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে মহান রবের আনুগত্য প্রকাশ করাই হলো এবাদত। কিন্তু আমি মনে করি ইবাদত এর পরিচিতি শুধুমাত্র এতোটুকুই সীমাবদ্ধ না রেখে বরং এটার বিস্তৃতিটাকে আরো বৃদ্ধি করা উচিত। অর্থাৎ আমি বলতে চাই  “জীবনের সর্বাঙ্গন এর সকল কাজ আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ অনুযায়ী সম্পাদন করার নামই হলো ইবাদত।”
 ইসলাম মানব জীবনের সকল দিক এবং বিভাগের এক আদর্শ জীবন ব্যবস্থার নাম। যেখানে জীবনের সকল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সমাধান রয়েছে। প্রতিটি দিক এবং বিভাগের সুস্পষ্ট আলোচনা রয়েছে সেই সুস্পষ্ট আলোচনাকে গ্রহণ করে মহান আল্লাহর দেওয়া নিয়ম অনুযায়ী সকাল থেকে সন্ধ্যা সন্ধ্যা থেকে সকাল আল্লাহর বিধান পালন করার নামই হচ্ছে ইবাদত।
ইবাদতের উদাহরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এভাবে বলা যায় শুধুমাত্র নামাজ রোজা হজ্ব যাকাত ইত্যাদি ইবাদত নয় বরং মানব জীবনের সকল কাজই ইবাদত।
 একজন ব্যক্তি সকাল সকাল বেলায় উঠে হাত মুখ ইত্যাদি ধুয়ে ফ্রেশ হবে এটি তাঁর সাধারণ কাজ কিন্তু এই কাজ করার ক্ষেত্রে সে বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করবে এটাই ইবাদত। সকালে ব্রাশ করবে ব্রাশ করার ক্ষেত্রে সে মেসওয়াক ব্যবহার করবে এটাই তার জন্য এবাদত। সে যখন নাস্তা করবে নাস্তা করার ক্ষেত্রে ইসলামী পদ্ধতি অনুসরণ করবে এটাই এবাদত। এভাবে জীবনের সকল ক্ষেত্রে সকল কাজ আল্লাহর দেয়া বিধান অনুসারে সম্পাদন করা হচ্ছে এবাদত। একজন চেয়ারম্যান তিনি যখন তার দায়িত্ব পালন করবেন তার দায়িত্বের ক্ষেত্রে ইসলামের যে দায়িত্ব পালনের নীতি আছে তা পালন করা উচিত।
এভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে মহান রবের দেয়া হুকুম পদ্ধতি অনুসারে সকল কাজ করার নাম এবাদত। আর আমাদেরকে সকল কাজ মহান রবের দেওয়া পদ্ধতি অনুসারে করতেই হবে। এটি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নির্দেশ।শুধুই  নির্দেশ নয় বরং কুরআনের প্রথম নির্দেশ।
আব্দুল মজিদ মারুফ
অধ্যয়নরত তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাস

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা