1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৫:৫১ অপরাহ্ন

ইসলামী জীবনব্যাবস্থায় জন্মদিন পালনের বিধান 

আব্দুল মজিদ মারুফ  (লেখক)
  • সময় : শনিবার, ১৯ জুন, ২০২১
  • ১৯২ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ইসলামী জীবনব্যাবস্থায় জন্মদিন পালনের বিধান

তরুণ আলোচক ও দায়ী ইলাল্লাহ আব্দুল মজিদ অধ্যয়নরত তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা একটি সাধারন কোন ধর্ম নয়। ধর্মের শুধুমাত্র ধর্মীয় রীতিনীতি এবং পদ্ধতি বর্ণনা করা থাকে কিন্তু জীবন ব্যবস্থার মধ্যে ব্যক্তির জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সকল বিষয়ের সুনিপুণ বর্ণনা থাকে। ইসলামকে যেহেতু পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা বলা হয়ে থাকে তাহলে নিশ্চয়ই এর মধ্যে মানুষের জীবনের সকল বিভাগের স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। তাহলে আমরা যে জন্মদিন পালন করি তার বিধান এখানে নিশ্চয়ই রয়েছে। অনেকেই জন্মদিন পালন সরাসরি হারাম হিসেবে ঘোষণা করে আবার আরেক শ্রেণীর মানুষ এটাকে বিভিন্ন কলাকৌশল জায়েজ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন, কিন্তু এ ব্যাপারে আসলে ইসলাম কি বলেছে তা আমাদের জানা অতীব প্রয়োজন।

 

 

জন্মদিন পালনের বিধান আলোচনা করতে গেলেই জন্মদিন সম্পর্কে দুইটি বিষয়ে আসে প্রথমতঃ জন্মবার হিসেবে জন্মদিন

দ্বিতীয়তঃ তারিখ ভিত্তিক জন্মদিন

এখন আমরা দলিল সহকারে উভয় বিষয়ে জানব ইনশাআল্লাহ।

 

জন্মবার হিসাবে জন্মদিনঃ-

 

জন্মবারে জন্মদিন পালন করা ইসলামী জীবন-ব্যাবস্থায় জায়েজ। তবে এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নিয়ম পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রচলিত নিয়মের আলোকে নয় বরং রোজা রেখে এই জন্ম দিন পালন করতে হবে (যদি পালন করতে চায়)।

এই ব্যাপারে রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীস এসেছে হযরত কাতাদাহ রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রতি সোমবারে রোজা রাখতেন, এ ব্যাপারে সাহাবারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, এ দিনেই আমি দুনিয়াতে শুভাগমন করেছি এবং এ দিনেই আমি নবুয়ত প্রাপ্ত হয়েছি। (সহিহ মুসলিম পৃষ্টা নং ৫৯১, হাদিস নং ১৯৮)

 

এই হাদীস থেকে বোঝা যায় বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম তার জন্মদিনে শুকরিয়া স্বরূপ রোজা রাখতেন তাই আমরা যদি জন্মবারে জন্মদিন পালন করতে চাই তাহলে জন্মবারে রোজা রাখার মাধ্যমে পালন করতে হবে এর বিকল্প কোন পদ্ধতি নেই। এখন আমরা জানবো তারিখ ভিত্তিক জন্মদিন পালন এ বিষয়ে ইসলাম কি বলেছে।

 

তারিখ ভিত্তিক জন্মদিবস পালনঃ-

 

রাসূলুল্লাহ সা, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন কারো যামানায় তারিখ ভিত্তিক জন্মদিন পালনের কোনো একটি রেওয়ায়াত পাওয়া যায় না৷

 

ইসলামের ইতিহাসে জন্মদিন পালনের কোনো রেওয়াজ যদি থাকত, তাহলে অসংখ্য সাহাবা, তাবেয়ীন, মুসান্নিফীনের জীবনীতে জন্ম তারিখের অস্পষ্টতা থাকত না৷ স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সা,এর জন্ম তারিখ নিয়েও ঐতিহাসিকদের মাঝে মতভেদ রয়ে গেছে৷ বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্মতারিখ শুধু নয় বরং জন্মের মাস নিয়েও বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। কোন কোন মুসান্নিফ উল্লেখ করেছেন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লাম এর জন্ম মহররম মাসে কারো মতে রজব মাসে কেউ বলেছেন রমজান মাসে এবং রবিউল আউয়াল মাসে সম্পর্কেও কিছু বর্ণনা পাওয়া গেলেও তারিখ নিয়ে অনেক মতামত রয়েছে।

 

ইসলামী জীবন ব্যাবস্থায় যদি তারিখ ভিত্তিক জন্মদিন পালনের জায়েজ থাকতো তাহলে অবশ্যই বিশ্ব নবীর জন্মদিন পালনের ইতিহাস হাদিস গ্রন্থ গুলিতে পাওয়াযেত। জন্ম দিন পালনের ইতিহাস না থাকায় এটি প্রমাণ করে এটি ইসলামী সংস্কৃতির অংশ নয়। ইসলাম একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থা। এই স্বয়ংসম্পূর্ণ জীবনব্যবস্থায় যেহেতু জন্মদিন পালনের রীতি পদ্ধতি পাওয়া যায়না তাই বলা যায় এটি বিধর্মী এবং বিজাতীয় সংস্কৃতির অংশ।

 

কেক কেটে জন্মদিন পালনের উদ্ভব হয় পশ্চিমা দেশগুলোতে। আর জন্মদিনের সূচনা হয় ফিরাউন থেকে। বাইবেলের বুক অব জেনেসিসে এসেছে, ‘তৃতীয় দিনটা ছিল ফিরাউনের জন্মদিন। ফিরাউন তার সব দাসদের জন্য ভোজের আয়োজন করলেন। সেই সময় ফিরাউন রুটিওয়ালা ও খাদ্যদ্রব্য পরিবেশককে কারাগার থেকে মুক্তি দিলেন।’ (আদি পুস্তক : ৪০২)

 

এটা বিধর্মীদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় আচার হওয়ায় এটি পালন করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও নাজায়েজ।

 

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,

{ ﺍﺗَّﺒِﻌُﻮﺍ ﻣَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻣِﻦْ ﺭَﺑِّﻜُﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺘَّﺒِﻌُﻮﺍ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻧِﻪِ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀَ ﻗَﻠِﻴﻠًﺎ ﻣَﺎ ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭﻥَ {

[ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ : 3 ]

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষথেকে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তার অনুসরণ কর। তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য সাথিদের অনুসরণ কর না।তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা আ’রাফঃ৩)

 

হাদীস শরীফে এসেছে-

“ ﻋﻦ ﺍﺑﻦ ﻋﻤﺮ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ” ﻣﻦ ﺗﺸﺒﻪ ﺑﻘﻮﻡ ﻓﻬﻮ ﻣﻨﻬﻢ

হযরত ইবনে উমার রাযি. হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের অনুরূপ অবলম্বন করে,সে তাঁদেরই দলভুক্ত। (সুনানে আবূ দাঊদঃ ৪০৩১)

এই হাদীসের থেকে বুঝা যায় বিজাতীয় সাংস্কৃতিক জন্মদিন পালন আমাদের পরিহার করা কর্তব্য। এটা পরিহার না করলে কঠিন শাস্তি হবে এবিষয়ে আল্লাহ এরশাদ করেছেন

 

مَاۤ اٰتٰىكُمُ الرَّسُوْلُ فَخُذُوْهُ١ۗ وَ مَا نَهٰىكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوْا١ۚ وَ اتَّقُوا اللّٰهَ١ؕ اِنَّ اللّٰهَ شَدِیْدُ الْعِقَابِۘ

 

রসূল যা কিছু তোমাদের দেন তা গ্রহণ করো এবং যে জিনিস থেকে তিনি তোমাদের বিরত রাখেন তা থেকে বিরত থাকো। আল্লাহকে ভয় করো। আল্লাহ‌ কঠোর শাস্তিদাতা।(আল-হাশর,:আয়াত: ৭)

 

তারিখ ভিত্তিক জন্মদিন যেহেতু বিধর্মীদের থেকে এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি থেকে আসা এবং এটি ফেরাউনের আবিষ্কৃত এমনকি ইসলাম ধর্মে এর কোন স্থান নাই তাই এই জন্মদিন পালন নিঃসন্দেহে একটি অপকর্ম। এদিন ফেসবুকে কাউকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানো, আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধব জমায়েত হয়ে উৎসব করা, অনুষ্ঠানের আয়োজন করা, বিশেষ দোয়া, সালাম বা উপহার পেশ করা, বয়স অনুপাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে তা ফুঁ দিয়ে নেভানো, কেক কেটে খাওয়া প্রভৃতি কাজ এসব অপচয় কোনো ধার্মিকের হতে পারে না।

 

কেক না কেটে অন্যকোন পন্থায় তারিখ ভিত্তিক জন্মদিন পালন করাও বৈধ হবে না৷ কেননা জন্মদিন পালনের মূল বিষয়টি যেহেতু বিধর্মীদের থেকে এসেছে তাই বলা যায় এর মূল জিনিসটিই ইসলামে প্রত্যাখ্যাত। তা যে কোন পদ্ধতিতেই হোক। এব্যাপারে সকলেই একমত হবেন যদি উপরোল্লিখিত আয়াত হাদিস নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে থাকেন।

 

তা ছাড়া জন্মদিনে খুশি হয়ে আনন্দ-উৎসব করা নেহায়েতই বোকামি ছাড়া আর কিছু নয়। কেননা, জীবন থেকে একটি বছর ঝরে গেলে তার জন্য আক্ষেপ ও দুঃখ করা উচিত, খুশি নয়। আল্লাহতায়ালা আমাদের সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন।

 

তরুন আলোচক ও দায়ী ইল্লালাহ আব্দুল মজিদ

অধ্যয়নরত তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা

টংগী, গাজীপুর


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা