1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৬:০২ অপরাহ্ন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন কথা

স্টাফ রিপোর্টার
  • সময় : বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
  • ১২৩ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কাজীনজরুল ইসলাম (মে ২৫, ১৮৯৯ — আগস্ট ২৯, ১৯৭৬), বাঙালিকবি, সঙ্গীতজ্ঞ, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। বাংলাভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

 

পশ্চিমবঙ্গও বাংলাদেশ – দুই বাংলাতেই তাঁর কবিতা ও গান সমানভাবে সমাদৃত।তাঁরকবিতায় বিদ্রোহী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তাঁকে বিদ্রোহী কবিবলা হয়।তারকবিতার মূল বিষয়বস্তু ছিল মানুষের প্রতি মানুষের অত্যাচার এবংদাসত্বেরবিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদ।

 

বাংলা মননে কাজী নজরুল ইসলামেরমর্যাদা ওগুরুত্ব অপরিসীম। একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদএবং সৈনিক হিসেবে অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে নজরুল সর্বদাইছিলেনসোচ্চার।

 

তাঁর কবিতা ও গানে এই মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। অগ্নিবীণাহাতেতাঁর প্রবেশ, ধূমকেতুর মতো তাঁর প্রকাশ। যেমন লেখাতে বিদ্রোহী, তেমনই জীবনে – কাজেই “বিদ্রোহী কবি”।

 

নজরুল এক দরিদ্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণকরেন। তার প্রাথমিক শিক্ষা ছিলধর্মীয়। স্থানীয় এক মসজিদে মুয়াজ্জিনহিসেবে কাজও করেছিলেন। বিভিন্নথিয়েটার দলের সাথে কাজ করতে যেয়ে তিনিকবিতা, নাটক এবং সাহিত্য সম্বন্ধেজ্ঞান লাভ করেন।

 

ভারতীয় সেনাবাহিনীতেকিছুদিন কাজ করার পর তিনিসাংবাদিকতাকে পেশা হিসেবে বেছে নেন। এসময় তিনিকলকাতাতেই থাকতেন। এসময়তিনি ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামেঅবতীর্ণ হন।

 

প্রকাশ করেনবিদ্রোহী এবং ভাঙার গানের মত কবিতা; ধূমকেতুর মতসাময়িকী। জেলে বন্দী হলেপর লিখেন রাজবন্দীর জবানবন্দী। এই সবসাহিত্যকর্মে সাম্রাজ্যবাদেরবিরোধিতা ছিল সুস্পষ্ট। ধার্মিক মুসলিম সমাজএবং অবহেলিত ভারতীয় জনগণেরসাথে তার বিশেষ সম্পর্ক ছিল।

 

তার সাহিত্যকর্মেপ্রাধান্য পেয়েছে ভালবাসা, মুক্তি এবং বিদ্রোহ। ধর্মীয় লিঙ্গভেদেরবিরুদ্ধেও তিনি লিখেছেন। ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক লিখলেও তিনি মূলত কবিহিসেবেই বেশি পরিচিত।

 

বাংলাকাব্য তিনি এক নতুন ধারার জন্ম দেন। এটি হলইসলামী সঙ্গীত তথা গজল। নজরুলপ্রায় ৩০০০ গান রচনা এবং সুর করেছেন যেগুলোএখন নজরুল সঙ্গীত বা “নজরুলগীতি” নামে পরিচিত এবং বিশেষ জনপ্রিয়।মধ্যবয়সে তিনি পিক্স ডিজিজেআক্রান্ত হন।

 

এর ফলে দীর্ঘদিন তাকেসাহিত্যকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে হয়।একই সাথে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েফেলেন। বাংলাদেশ সরকারের আমন্ত্রণে১৯৭২ সালে তিনি সপরিবারে ঢাকা আসেন।এসময় তাকে বাংলাদেশের জাতীয়তাপ্রদান করা হয়। এখানেই তিনি মৃত্যুবরণকরেন।

 

**জীবনী

*জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

১৮৯৯খ্রিস্টাব্দের ২৪ মে (১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ই জ্যৈষ্ঠ) ভারতেরপশ্চিমবঙ্গেরবর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণকরেন কাজী নজরুলইসলাম। চুরুলিয়া গ্রামটি আসানসোল মহকুমার জামুরিয়াথানায় অবস্থিত।পিতামহ কাজী আমিনউল্লাহর পুত্র কাজী ফকির আহমদেরদ্বিতীয়া পত্নী জাহেদাখাতুনের ষষ্ঠ সন্তান তিনি।

 

তার বাবা ছিলেনস্থানীয় এক মসজিদের ইমাম| তারাছিলেন তিন ভাই এবং বোন। তার সহোদর তিন ভাইও দুই বোনের নাম হল: সবার বড়কাজী সাহেবজান, কনিষ্ঠ কাজী আলী হোসেন, বোনউম্মে কুলসুম। কাজী নজরুলইসলামের ডাক নাম ছিল “দুখু মিয়া”|

 

তিনিস্থানীয় মক্তবে (মসজিদ পরিচালিতমুসলিমদের ধর্মীয় স্কুল) কুরআন, ইসলামধর্ম , দর্শন এবং ইসলামী ধর্মতত্ত্বঅধ্যয়ন শুরু করেন। ১৯০৮খ্রিস্টাব্দে যখন তার পিতার মৃত্যু হয়, তখন তারবয়স মাত্র নয় বছর।

 

পারিবারিক অভাব অনটনের কারণে তাঁর শিক্ষা বাধাগ্রস্থহয় এবং মাত্র দশ বছরবয়সে তাকে নেমে যেতে হয় জীবিকা অর্জ্জনে।

 

এসময়নজরুল মক্তব থেকে নিম্নমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উক্ত মক্তবেইশিক্ষকতা শুরু করেন। একইসাথে হাজী পালোয়ানের কবরের সেবক এবং মসজিদেরমুয়াজ্জিন (আযানদাতা)হিসেবে কাজ শুরু করেন।

 

এইসব কাজের মাধ্যমে তিনিঅল্প বয়সেই ইসলাম ধর্মেরমৌলিক আচার অনুষ্ঠানের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিতহবার সুযোগ পান যা তারপরবর্তী সাহিত্যকর্মকে বিপুলভাবে প্রভাবিত করেছে।তিনিই বাংলা সাহিত্যেইসলামী চেতনার চর্চা শুরু করেছেন বলা যায়।

 

মক্তব, মসজিদ ও মাজারের কাজে নজরুল বেশি দিন ছিলেননা। বাল্য বয়সেইলোকশিল্পেরপ্রতি আকৃষ্ট হয়ে একটি লেটো (বাংলার রাঢ় অঞ্চলের কবিতা, গান ওনৃত্যেরমিশ্র আঙ্গিক চর্চার ভ্রাম্যমান নাট্যদল)| দলে যোগ দেন।

 

তার চাচাকাজী বজলেকরিম চুরুলিয়া অঞ্চলের লেটো দলের বিশিষ্ট ওস্তাদ ছিলেন এবংআরবি, ফারসি ওউর্দূ ভাষায় তার দখল ছিল।

 

এছাড়া বজলে করিম মিশ্র ভাষায়গান রচনা করতেন।ধারণা করা হয় বজলে করিমের প্রভাবেই নজরুল লেটো দলে যোগদিয়েছিলেন।এছাড়া ঐ অঞ্চলের জনপ্রিয় লেটো কবি শেখ চকোর (গোদা কবি) এবংকবিয়াবাসুদেবের লেটো ও কবিগানের আসরে নজরুল নিয়মিত অংশ নিতেন।

 

লেটোদলেইসাহিত্য চর্চা শুরু হয়। এই দলের সাথে তিনি বিভিন্ন স্থানে যেতেন, তাদেরসাথে অভিনয় শিখতেন এবং তাদের নাটকের জন্য গান ও কবিতা লিখতেন।

 

নিজকর্মববং অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বাংলা এবং সংস্কৃত সাহিত্য অধ্যয়ন শুরুকরেন।একইসাথে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ অর্থাৎ পুরাণসমূহ অধ্যয়ন করতে থাকেন।সেই অল্পবয়সেই তার নাট্যদলের জন্য বেশকিছু লোকসঙ্গীত রচনা করেন।

 

এরমধ্যে রয়েছেচাষার সঙ, শকুনীবধ, রাজা যুধিষ্ঠিরের সঙ, দাতা কর্ণ, আকবরবাদশাহ, কবিকালিদাস, বিদ্যাভূতুম, রাজপুত্রের গান, বুড়ো শালিকের ঘাড়েরোঁ এবং মেঘনাদবধ।

 

একদিকে মসজিদ, মাজার ও মক্তব জীবন, অপর দিকে লেটো দলেরবিচিত্রঅভিজ্ঞতা নজরুলের সাহিত্যিক জীবনের অনেক উপাদান সরবরাহ করেছে।নজরুলেরএসময়কার কবিতার উদাহরণ দেয়া যেতে পারে:

 

“ আমি আল্লা নামের বীজ বুনেছি এবার মনের মাঠে

ফলবে ফসল বেচবো তারে কিয়ামতের হাটে। ”

 

১৯১০সালে নজরুল লেটো দল ছেড়ে ছাত্র জীবনে ফিরে আসেন। লেটো দলে তারপ্রতিভায়সকলেই যে মুগ্ধ হয়েছিল তার প্রমাণ নজরুল লেটো ছেড়ে আসার পরতাকে নিয়েঅন্য শিষ্যদের রচিত গান: “আমরা এই অধীন, হয়েছি ওস্তাদহীন /ভাবি তাইনিশিদিন, বিষাদ মনে / নামেতে নজরুল ইসলাম, কি দিব গুণের প্রমাণ”|

 

এই নতুনছাত্রজীবনে তার প্রথম স্কুল ছিল রানীগঞ্জের সিয়ারসোল রাজ স্কুল| এর পরভর্তি হন মাথরুন উচ্চ ইংরেজি স্কুলে যা পরবর্তীতে নবীনচন্দ্রইনস্টিটিউশননামে পরিচিতি লাভ করে। মাথরুন স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষকছিলেনকুমুদরঞ্জন মল্লিক যিনি সেকালের বিখ্যাত কবি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।তারসান্নিধ্য নজরুলের অনুপ্রেরণার একটি উৎস। কুমুদরঞ্জন স্মৃতিচারণ করতেযেয়েনজরুল সম্বন্ধে লিখেছেন,

 

:!! ►►১৯৭৬ সালে নজরুলের স্বাস্থ্যেরও অবনতি হতেশুরুকরে। জীবনের শেষ দিনগুলো কাটে ঢাকার পিজি হাসপাতালে। ১৯৭৬খ্রিস্টাব্দের ২৯আগস্ট তারিখে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কবি তার একটি কবিতায়বলেছিলেন:

 

“ মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই,

যেন গোরের থেকে মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই”

এইকবিতায় তার অন্তিম ইচ্ছা প্রকাশ পেয়েছে। তার এই ইচ্ছার বিষয়টিবিবেচনাকরে কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাধিস্থকরারসিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং সে অনুযায়ী তাঁর সমাধি রচিত হয়। তারজানাজারনামাযে ১০ হাজারের মত মানুষ অংশ নেয়।

 

জানাজা নামায আদায়ের পররাষ্ট্রপতিসায়েম, মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান, রিয়াল এডমিরাল এম এইচখান, এয়ারভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ, মেজর জেনারেল দস্তগীর জাতীয় পতাকামন্ডিতনজরুলের মরদেহ সোহরাওয়ার্দী ময়দান থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদপ্রাঙ্গনেনিয়ে যান।

 

বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যু উপলক্ষ্যে দুই দিনেররাষ্ট্রীয় শোক দিবসপালিত হয়। আর ভারতের আইনসভায় কবির সম্মানে এক মিনিটনিরবতা পালন করাহয়। :!!


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা