1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
  2. nabadiganterdak@gmail.com : Md Sabbir : Md Sabbir
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শিক্ষা সেমিনার জুম প্লাটফর্মের শুভ উদ্ভোধন হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন পালন হরিপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রাণীশংকৈলে আনন্দ র‍্যালী ও মিলাদ মাহ্ফিল পীরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের র‌্যালি,মিলাত ও দোয়া অনুষ্ঠিত মিথ্যা অভিযোগ করায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন – বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁওয়ের জঙ্গলে মিলল যুবকের গলাকাটা লাশ প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে কটূক্তি করায় ভুরুঙ্গামারীতে একজনকে থানায় সোপর্দ পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মুত্যু, আহত ৪

জীবনে সফলতা আনার কৌশল (পর্ব-৭)

🖌️এম আব্দুল মজিদ মারুফ (পঞ্চগড় স্টাফ রিপোর্টার)
  • সময় : শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬৮ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কাজ ভিত্তিক আত্মসমালোচনার কথা বলতে গিয়ে সে জাগায় উল্লেখ করেছিলাম প্রতিটি কাজের হক যথাযথভাবে আদায় করা।

 

সেই স্থানে কাজের হকের বিস্তারিত কোনো আলোচনা করা হয়নি কাজেই আজ এখানে আমরা কাজ ভিত্তিক আত্মসমালোচনার ক্ষেত্রে যথাযথ হক আদায় করতে হবে সে হকের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ভাবে জানবো।

 

হক্ব একটি আরবী শব্দ এর বাংলা অর্থ হলো অধিকার। কাজের হক্ব আদায় করা অর্থ হবে কাজ যথাযথ আদায় করা বা যথাযথ ভাবে কাজ টি সম্পন্ন করা।

 

প্রতিটি কাজে কিছু হক্ব তথা অধিকার থাকে। এই অধিকার দুই ধরনের হতে পারে।

 

প্রথমত হাক্বুল্লাহ তথা আল্লাহর হক

দ্বিতীয়ত হাক্কুল ইবাদ তথা বান্দর হক

 

হাক্বুল্লাহ এর আলোচনা

শব্দটা দেখেই সকলেই বুঝতে পারতেছেন হক্বুল্লাহ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার হক বা অধিকার। প্রতিটি কাজেই আল্লাহর হক বা অধিকার রয়েছে। যে কাজটি ব্যাক্তির জন্য বা নিজের জন্য করা হয় তাতেও আল্লাহর হক রয়েছে। চাষাবাদ, ব্যাবসা বানিজ্য, চাকুরী ইত্যাদি নিজের ও সংসার, সমাজের কাজ হলেও এর প্রতিটিতে মহান আল্লাহর হক রয়েছে।

 

ইবাদত সহ প্রতিটি কাজে আল্লাহর হক্ব ছয়টি-

 

১. আমলের মধ্যে খুলূছিয়াত থাকা। এটি ইখলাস এর বহুবচন। অর্থাৎ সকল কাজে একনিষ্ঠতা লাগবে। এ বিষয় এ চমৎকার বর্ননা করেছেন সূরা বায়্যিনার মধ্যে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা সেখানে বলেন

 

وَ مَاۤ اُمِرُوْۤا اِلَّا لِیَعْبُدُوا اللّٰهَ مُخْلِصِیْنَ لَهُ الدِّیْنَ١ۙ۬ حُنَفَآءَ وَ یُقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ یُؤْتُوا الزَّكٰوةَ وَ ذٰلِكَ دِیْنُ الْقَیِّمَةِؕ

 

আর এদের (তথা বিশ্ববাসীকে) এ ছাড়া আর কিছুরই আদেশ দেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর জন্যেই নিজেদের দ্বীন ও এবাদাত নিবেদিত করে নেবে এবং নামায প্রতিষ্ঠা করবে, যাকাত দান করবে, (কেননা) এ হচ্ছে সঠিক জীবন বিধান।

 

এখানে আল্লাহর জন্য দ্বীন ও ইবাদাত করতে বলা হয়েছে। ইবাদত তো সকলেই বুঝি কিন্তু দ্বীন হলো জীবন ব্যাবস্থা তথা জন্ম হতে মৃত্যু জীবনের সকল কাজ। তাহলে আয়াত দ্বারা একথা স্পষ্ট যে প্রতিটি কাজ ও ইবাদাত ইখলাস সহকারে করতে হবে। এ বিষয় এ দলিল ও তথ্য এখানে উপস্থিত করছি না কেননা এটি ইখলাস নিয়ে আলোচনা করার অধ্যায় নয়।

 

২. আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি সঠিক বিশ্বাস পোষণ করা। প্রতটি কাজে আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি বিশ্বাস রেখে সম্পন্ন করতে হবে। এটিও ইবাদত এবং সকল কাজ এর অধিকার। আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে এ বিষয় এ বলেন

 

وَ هُوَ اللّٰهُ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ١ؕ لَهُ الْحَمْدُ فِی الْاُوْلٰى وَ الْاٰخِرَةِ١٘ وَ لَهُ الْحُكْمُ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ

 

তিনিই এক আল্লাহ‌ যিনি ছাড়া ইবাদাতের আর কোন হকদার নেই। তাঁরই জন্য প্রশংসা দুনিয়ায়ও, আখেরাতেও। শাসন কর্তৃত্ব তাঁরই এবং তাঁরই দিকে তোমরা ফিরে যাবে।

(কাসাস -২৮/৭০)

ফিরতে হবে তার কাছে,শাসন ক্ষমতা তার, তাহলে এবার বিবেকের আয়নায় প্রশ্ন রাখুন সকল কাজে একনিষ্ঠতা ও একত্ববাদ থাকবে কার?

 

৩.প্রতিটি ইবাদত ও কাজকর্মে রাসূলের (ছাঃ) প্রতি আনুগত্য করা তার অনুসরণ করা। রসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আদর্শ ও কর্মপদ্ধতি আমাদের একমাত্র আদর্শ আর এটা যেহেতু আল কুরআন কতৃক নির্ধারিত তাই এর অনুসরণ এর কোন বিকল্প নাই। আল্লাহ পাক আমাদের জানান

 

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللّٰهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللّٰهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ وَ ذَكَرَ اللّٰهَ كَثِیْرًاؕ

 

আসলে তোমাদের জন্য আল্লাহর রসূলের মধ্যে ছিল একটি উত্তম আদর্শ এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ‌ ও শেষ দিনের আকাঙ্ক্ষী এবং বেশী করে আল্লাহকে স্মরণ করে।

(সূরা আহজাব ৩৩/২১)

সকল কাজে আমাদের সেই মহান আদর্শকে অনুসরণ করতে হবে আর এটাই হচ্ছে কাজের হক্ব সমূহের অন্যতম একটি হক বা অধিকার।

 

৪.সকল কাজে একাগ্রতা থাকা। আর এটি সূরা আনআমের মধ্যে আল্লাহ পাক ইব্রাহিম (আঃ) এর ঘটনা বর্ননা করতে গিয়ে উল্লেখ করেন। আল কুরআন এর ভাষায়

اِنِّیْ وَجَّهْتُ وَجْهِیَ لِلَّذِیْ فَطَرَ السَّمٰوٰتِ وَ الْاَرْضَ حَنِیْفًا وَّ مَاۤ اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِیْنَۚ

 

আমি তো একনিষ্ঠভাবে নিজের মুখ সেই সত্তার দিকে ফিরিয়ে নিয়েছি যিনি যমীন ও আসমান সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।

( সূরা আনআম ৬/৭৯)

এখানে একনিষ্ঠ মুখ ফেরানো টা একগ্রতাও বুঝায় কেননা এই একাগ্রতা ঘোষণা দিয়েই আমরা নামাজ শুরু করি কিংবা নামাজ শুরু করে এই একাগ্রতা ঘোষণা দিয়ে পরিপূর্ণ ভাবে নামাজে প্রবেশ করি।

 

৫. নিজ সত্তার উপর আল্লাহর কর্তৃত্বের পূর্ণ উপলব্ধি থাকা। আর এই উপলব্ধি আখেরাতের জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে এই চেতনা মনে রেখেই সকল কাজ করা। আল্লাহ পাক বলেন

 

فَمَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَیْرًا یَّرَهٗؕ (৭) وَ مَنْ یَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا یَّرَهٗ۠ (৮)

অতএব যে ব্যক্তি এক অণু পরিমাণ কোনো ভালো কাজ করবে (সেদিন) তাও সে দেখতে পাবে;(ঠিক তেমনি) কোনো মানুষ যদি অণু পরিমাণ খারাপ কাজও করে, তাও সে (তার চোখের সামনে) দেখতে পাবে।

(সূরা যিলযাল ৭-৮)

সেদিন সুক্ষ সুক্ষ কাজের হিসাব হবে আর এই হিসাব নিবেন আল্লাহ পাক আর এটিই আমাদেরকে আল্লাহর কৃত্বিতের কথা মনে করিয়ে দেয়। তাই এই চেতনা রেখে সকল ছোট বড় কাজ করতে হবে।

 

৬. অতঃপর এ সকল বিষয়াদির প্রতিটিতে নিজের ত্রুটি হচ্ছে-এই অনুতপ্তভাব থাকা (ইহয়াউ উলূমিদ্দীন, ৪/৩৯৪ পৃঃ)। তথা আমাদের প্রতিটি সময় সকল কাজে আত্মসমালোচনা করা। আল্লাহর হক এর ব্যাপারে সচেতন থাকা।

 

এ সকল হক্ব পূর্ণভাবে আদায় করা হয়েছে কি-না আমল সম্পন্ন করার পর তা চিন্তা করতে হবে।

 

হক্বুল ইবাদ তথা বান্দার হক্ব

 

আল্লাহ পাক আমাদের মানুষ হিসাবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ হবে হিসাবে আমাদের সকলের মর্যাদা সমান। কিন্তু অধিকার হিসাবে আমাদের পার্থক্য রয়েছে। মানুষের মধ্যে রয়েছে বাবা মা, আত্মীয় স্বজন, পারা প্রতিবেশী, মুসলিম ও অমুসলিম এ ধরনের বিভিন্ন শ্রেনির মানুষের হকের মধ্যে রয়েছে পার্থক্য। প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা আলাদা হক। আমাদের কর্তব্য হলো সেই সকল হক্ব যথাযথ আদায় করা।

 

কাজের ক্ষেত্রে বান্দার হক এর মূলনীতি হলো কাজ করতে গিয়ে যেন আল্লাহর কোন বান্দা কোন সমস্যায় পতিত না হয় বা কষ্ট না পায় তার প্রতি দৃষ্টি রেখে সকল কাজ সমাধান করা। কোন কাজে কারো সমস্যা না করা,কারো ক্ষতি না করা।

 

এই মূলনীতি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সকল কাজ সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ব্যাক্তির বিভাজনে মানুষের যে হক রয়েছে তা এখানে আলোচনা করতে চাচ্ছি না। কেননা এতে কলেবর বৃদ্ধি হবে।

 

তরুণ আলোচক ও দায়ী ইলাল্লাহ

এম আব্দুল মজিদ মারুফ

অধ্যায়নরত তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা