1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৬:০৬ অপরাহ্ন

*বৃষ্টি আল্লাহর রহমত*

এম মোস্তাফিজুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম)
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৫৩ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

*বৃষ্টি আল্লাহর রহমত*
***************************
*বৃষ্টির অভাবে সৃষ্টিতে হাহাকার চলছে। মাটির নীচের পানির স্তরও নীচে নেমে গেছে? বৃষ্টি নিয়ে সকল ধর্ম গ্রন্হে উল্লেখ আছে। তবে আল কুরআনের বহু স্হানে বৃষ্টি নিয়ে বিজ্ঞান সম্মত,সত্য ও যৌক্তিক বর্ণনা রয়েছে। কতো লেখক, কবি, দার্শনিক, সাহিত্যিক বৃষ্টির স্তুতি গেয়েছেন তার হিসেব নেই। কবি ফররুখ বৃষ্টির অবস্হা তুলে ধরেছেন এভাবে-
বৃষ্টি এলো কাশ বনে
জাগলো সাড়া ঘাস বনে
বকের সারি কোথায়রে
লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে।
* ছোট বেলা হতে বৃষ্টি চেয়ে গান শুনেছি, আল্লাহ মেঘ দে,পানি দে,ছায়া দেরে তুই,আল্লাহ মেঘ দে—
এক কথায় বৃষ্টি ছাড়া সৃষ্টি রাজি ও প্রকৃতি অচল।
*বৃষ্টি আল্লাহর রহমতের বহিঃপ্রকাশ। এটি আল্লাহই নিয়ন্ত্রণ করেন। যা কিছু নাজিল হয় বৃষ্টি তার অন্যতম।
বৃষ্টি সরাসরি আল্লাহ হতেই আসে।এটি শ্রেষ্ঠ ও পবিত্র পানির একটি। প্রতি ফোঁটা বৃষ্টি একজন ফেরেস্তা আকাশ হতে নিয়ে আসে জমিনে।আল্লাহু আকবার।
* আল কুরআনে বৃষ্টি প্রসঙ্গঃবৃষ্টি নিয়ে কুরআনের বহু আয়াতের কয়েকটি এরকম,” শপথ চক্রশীল আকাশে
র” ( তারেক ১১) এখানে আকাশ হতে পর পর বৃষ্টি নাযিল হওয়া,বন্দ্ব হয়ে আবার বৃষ্টি আসার বিষয়টি বোঝানো হয়েছে।অন্য আয়াত দেখুন,” আমি জলধর মেঘমালা হতে প্রচুর বৃষ্টি পাত করি।যাতে তাদ্বারা উৎপন্ন করি শস্য উদ্ভিদ। ও পাতাঘন উদ্যান।( নাবা ১৪-১৫-১৬) আল্লাহ আরো বলেন,’ যে পবিত্র সত্তা তোমাদের জন্য জমিনকে বিছানা এবং আকাশকে ছাদ
স্বরুপ স্হাপন করে দিয়েছেন, আর আকাশ হতে পানি
বর্ষণ করে তোমাদের জন্য ফল ফসল উতপাদন করেছেন তোমাদের খাদ্য হিসেবে। “( বাকারা২২) আরেক টি আয়াত দেখুন,” তাঁর আরও নিদর্শন তিনি তোমাদেরকে দেখান বিদ্যুৎ ভয় ও ভরসার জন্যে
এবং আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন,অতঃপর তাদ্বারা
ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনরুজ্জীবিত করেন।নিশ্চয়
এতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে “।
( রুম-২৪) দেখুন আরেকটি আয়াত,” আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছি অতঃপর তাতে উদগত করেছি সর্ব প্রকার কল্যানকর উদ্ভিদরাজি।”( লোকমান
১০) আরেক স্থানে আল্লাহ বলেন,” এবং যিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন পরিমান মতো।অতঃপর
তাদ্বারা আমি মৃত জমিনকে আবার জিন্দা করেছি। এমনি ভাবে তোমরাও উল্থিত হবে।”( যুখরুফ ১১)সূরা
ওয়াকিয়ায় দেখুন,” তোমরা যে পানি পান কর,তা নিয়ে
ভেবে দেখেছ কি? তা কি মেঘ হতে তোমরা নামিয়ে আন না আমি আমি নাযিল করি?। আমি ইচ্ছে করলে
তাকে লোনা করে দিতে পারি। অতঃপর তোমরা কেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর না?। ( ওয়াকিয়াহ ৬৮-৬৯-৭০)
নিরাশ বান্দাহকে আল্লাহই বৃষ্টি দেন। ” মানুষ নিরাশ হয়ে যাওয়ার পরে তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং স্বীয়
রহমত ছড়িয়ে দেন।তিনিই কার্যনির্বাহী প্রশংসিত। ”
( শুরা-২৮) বৃষ্টি কখন আসবে আল্লাহই জানেন। আল্লাহ বলেন,” নিশ্চয় আল্লাহর কাছেই কিয়ামাতের
জ্ঞান রয়েছে। তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন। এবং গর্বাশয়ে
যা থাকে তিনি তা জানেন।কেউ জানেনা আগামীকাল
সে কি উপার্জন করবে।এবং কেউ জানেনা কোন দেশে
সে মরবে”। ( লোকমান৩৪) এছাড়াও বাকারা১৬৪, আরাফ৫৭, সহ বিভিন্ন আয়াতে বৃষ্টির রহস্য নিয়ে বর্ণনা
রয়েছে।
*বৃষ্টি সম্পর্কে প্রিয় রাসূল সাঃ)ঃ রাসূল সাঃ অতি বৃষ্টি
ও অনাবৃষ্টি হতে ফানাহ চেয়ে দোয়া করেছেন। দোয়াটি
ছিল ” হে আল্লাহ উপকারী বৃষ্টি দাও” (বোখারী) মেঘ দেখলে প্রিয় রাসূল সালাতে দাঁড়িয়ে যেতেন।বলতেন
এ মেঘে রহমত গজব দুটোই আছে।হাদীছে এসেছে
বৃষ্টি আল্লাহ হতেই আসে।এজন্য প্রিয় নবী সাঃ বৃষ্টিতে
ভিজতেন। ( মুসলিম) হাদিসে অনাবৃষ্টি কে কিয়ামতের
আলামত বলা হয়েছে। বয়ানুল কুরআনে এসেছে মেঘমালাকে আল্লাহর হুকুমে ফেরেস্তারা হাঁকিয়ে নিয়ে
বৃষ্টির ব্যবস্থা করে।বৃষ্টি কালীন সময়ে দোয়া কবূল হয়।বৃষ্টির পানিতে ভেজা মুস্তাহাব। প্রিয় নবী সাঃ কৃপন ধ্বনীকে বৃষ্টি হীন মেঘের সাথে উপমা দিয়েছেন। আবার
তিনি নিজকেও মেঘ বৃষ্টির সাথে উপমা দিয়েছেন। রাসূল সাঃএর দোয়ায় একবার বৃষ্টি নামে।লোকেরা বল্ল
হুজুর বৃষ্টি কমতে দোয়া করুন। অতঃপর রাসূলের দোয়ায় বৃষ্টি কমে যায়। সুবহানাল্লাহ।
* শ্রেষ্ঠ যত পানি ও পানীয়ঃ গুনাহগারের চোখের পানি, যমযমের পানি, অযুর পানি, শহীদেরখুন,জান্নাতি পানি
ও শরবত, দূধ, মধু আর বৃষ্টির পানি,ও শ্রমিকের গায়ের ঘাম হচ্ছে শ্রেষ্ঠ পানি এবং পানীয়।
* যা কিছু নাজিল হয়ঃ রহমত,গজব,সাকিনাহ,ফেরেস্তা
অহী,বিশেষ খাদ্য,বরকত,বৃষ্টি।ঈসা আঃ ও কেয়ামতের
পূর্বে নাযিল হবেন।এছাড়াও নাজিলের আরো বিষয় রয়েছে।
* বৃষ্টি কোথা হতে আসে? বৃষ্টি মেঘ হতে,আকাশ হতে এবং আল্লাহ হতে আসে বলে দলিল রয়েছে। মেঘ ছাড়াও আল্লাহর হুকুমে তাঁর কুদরাতে বজ্রপাত ও
আকাশ হতে বৃষ্টি নাজিল সম্ভব। যার প্রমানও আছে।
* বৃষ্টিতে গজব? আল্লাহ বলেন-” তখন আমি খুলে দিলাম আকাশের দ্বার প্রবল বারি বর্ষণের মাধ্যমে। এবং ভূমি হতে প্রবাহিত করলাম প্রস্রবণ অতঃপর
সব পানি মিলিত হল এক পরিকল্পিত কাজে।আমি নূহকে আরোহণ করালাম এক কাষ্ঠ ও পেরেক নির্মিত
জলজানে।যা চলত আমার দৃষ্টির সামনে। এটা তার
পক্ষ থেকে প্রতিশোধ ছিল। যাকে প্রত্যাখ্যান করা
হয়েছিল। ( ক্বামর-১২-১৩-১৪) এখানে বৃষ্টি সহ প্লাবন
এর মাধ্যমে নূহ আঃ আমলের গজবের উল্লেখ হয়েছে।
* মানুষের মৃত্যু ও বৃষ্টির মিল রয়েছে।সাগর হতে মেঘ আকারে নোনা পানিকে ফেরেস্তারা আকাশে হাঁকিয়ে
আনে,অতঃপর তা শোধন করে প্রয়োজনীয় উপাদান
ও ঔষধ দিয়ে বৃষ্টির মিষ্টি পানি জমিনে নাজিল করা
হয়।এ পানি জমিন হতে খালে,খালহতে নদী হয়ে আবার সাগরে চলে যায় যেখান হতে তা এসেছিল।
এভাবে মানুষের জন্ম মৃত্যু ওআল্লাহর কাছে ফিরে
যাওয়ার বিষয়টিও মিলে যায় বৃষ্টির সাথে।
*বৃষ্টি কেন বন্দ্ব হয়ে যায়ঃ বৃষ্টি বন্দ্বের কারণ জাকাত
ও দান সাদকাহ না দেয়া,ওজনে তথা ব্যবসায় ভেজাল
করা, ব্যভিচার ,আল্লাহর সীমা লঙ্ঘন ও নানাবিধ পাপাচার করা। যা হাদীসে ও এসেছে।পরিবেশবিজ্ঞানীরা বলেন,
বৃক্ষ নিধন,প্রয়োজনীয় বনভূমি ধ্বংস, ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন না রাখায় বৃষ্টি হচ্ছেনা। ইসলাম ও তাকে সমর্থন করে।কারণ বৃক্ষ ও উদ্ভিদ তাসবীহ করে মহান আল্লাহর।
* বৃষ্টির জন্য গুনাহ হতে তাওবা ঃখলিফা ওমরের কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া চাওয়া হল।তিনি বল্লেন আস্তাগ
ফিরুল্লাহ।অর্থাৎ গুনাহের জন্যে ক্ষমা চাইলেন।
অবশেষে অল্প সময়ের মধ্যেই বৃষ্টি এসে গেল। বোঝা গেল তাওবাহ বা আত্ন সংশোধিত হলেই আল্লাহ
রহমত করেন।মূসা আঃ এর আমলে আল্লাহ জানিয়ে
দিলেন দোয়া কবূল হবেনা বৃষ্টিও আসবেনা যদি পাপিষ্ঠ
লোকটি বেরিয়ে না যায়।কিন্তু বৃষ্টি এসে গেল।মূসা আঃ
কে আল্লাহ জানালেন, সে পাপিষ্ঠ লোকটি নিজেকে
জনসমক্ষে প্রকাশ করতে চায়নি,বরং লজ্জিত হয়ে
এতো কেঁদেছে, তাওবা এস্তেগফার করেছে যে আমি
তাকে ক্ষমা করে বৃষ্টির ধারা নাজিল করে দিয়েছি। এক ব্যক্তির জমিনেই বৃষ্টি হল।অন্য কোথাও বৃষ্টি
হলনা।খোঁজ নিয়ে দেখা গেল তিনি যথা সময়েই ফসলের যাকাত দিয়ে দিতেন। বৃষ্টির জন্য এস্তেসকার সালাত পড়ে বিশেষ নিয়মে দোয়া করার ও নিয়ম রয়েছে।এতেও আল্লাহ রহম করেন।যা পরীক্ষীত ও বটে
* প্রচন্ড খরতাপে চারদিকে হাহাকার। মাটি ফেটে চৌচির। চার দিকে হতাশা। জন জীবন অতিষ্ঠ। এর মধ্যেই আমাদের আশার আলোর সন্দ্বান করতে হবে।
সে আশার আলোর নাম গুনাহ হতে তৌবাহ এস্তগফার।
পাশাপাশি ভেজালমুক্ত জীবন, যাকাত প্রদান,দান সাদকাহ,পরিবেশ রক্ষা এসবের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।আর আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ নাহয়ে আসুন আমরা আল্লাহর সে বানীটি উচ্চারণ করি” যদি জনপদের লোকেরা ঈমান আনে, এবং তাকওয়া অবলম্বম করে, তাহলে
অবশ্যই আমি তাদের জন্য খুলে দেব বরকত সমূহ আকাশ ও ভূমিভাগ হতে’ (কুরআন)
লেখক!
এম মোস্তাফিজুর রহমান.চট্টগ্রাম


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা