1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৬:১৬ অপরাহ্ন

সুরমা এর ব্যবহার ইসলামী সমাজ গঠনে যা শিক্ষা দেয়

আব্দুল মজিদ মারুফ (লেখক)
  • সময় : মঙ্গলবার, ৩০ মার্চ, ২০২১
  • ৩১৫ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ ، قَالَ : حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ الطَّيَالِسِيُّ ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ مَنْصُورٍ ، عَنْ عِكْرِمَةَ ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : ” اكْتَحِلُوا بِالإِثْمِدِ , فَإِنَّهُ يَجْلُو الْبَصَرَ ، وَيُنْبِتُ الشَّعْرَ ” وَزَعَمَ ” أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , كَانَتْ لَهُ مُكْحُلَةٌ يَكْتَحِلُ مِنْهَا كُلَّ لَيْلَةٍ , ثَلاثَةً فِي هَذِهِ ، وَثَلاثَةً فِي هَذِهِ ” .

শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ৪১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস

ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সঃ) বলেছেন, তোমরা ইছমিদ সুরমা ব্যবহার করো। কারণ, তা চোখের জ্যোতি বৃদ্ধি করে ও পরিষ্কার রাখে এবং অধিক ভ্রু উৎপন্ন করে (ভ্র উদগত হয়)। ইবনে আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (সঃ) এর একটি সুরমাদানী ছিল। প্রত্যেক রাত্রে (ঘুমানোর পূর্বে) ডান চোখে তিনবার এবং বাম চোখে তিনবার সুরমা লাগাতেন।
(শামায়েলে তিরমিযি, হাদিস নং ৪১
হাদিসের মান: সহিহ হাদিস,
সুনানুল কুবর লিল ইমাম বাইহাকী, হা/৮৫১৬।)
হাদিসের আলোকে সুরমা ব্যবহারের পদ্ধতি নিয়ম এবং এই হাদিস থেকে সামাজিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

সুরমা ব্যবহারের হুকুম ও পদ্ধতি :
নারী-পুরুষ সকলের জন্য চোখে সুরমা লাগানো ভালো। এখানে সুরমার কিছু উপকার উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও সুরমা ব্যাবহারে অনেক উপকার রয়েছে তবুও সওয়াবের নিয়তে সুরমা লাগানো উচিত।, যাতে চোখের উপকারের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর সুন্নতের অনুসরণের সওয়াবও লাভ হয়।
এই ব্যপারে রসূল সাঃ এর উক্তি
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقبل الاعمال الا بشرطان الاخلاص والمتابعه للرسول صلى الله عليه وسلم
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন দুটি শর্ত ছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীন কোন আমল কবুল করেন না তা হলো ইখলাস এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম এর আনুগত্য।

হাদিস হতে বুঝা যায় আমল কবুলের শর্ত দুইটি (১) নিয়ত বিশুদ্ধ হওয়া আমাদের নিয়ত সোয়াবের জন্য হলে সোয়াব হবে উপকারও হবে। আর শুধু উপকারের জন্য আমল করলে উপকার হবে কিন্তু কবুল হবে না সোয়াব পাওয়া যাবে না।
(২)রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পদ্ধতি অনুসারে আমল করা। অর্থাৎ তাঁর দেখানো পদ্ধতিতে সুরমা ব্যাবহার করা। অতএব আমাদেরকে সুরমা ব্যবহারের সুন্নতি পদ্ধতি জানতে হবে এবং পরকালীন কল্যাণ অর্জনের জন্য সেই পদ্ধতিতেই সুরমা ব্যবহার করতে হবে।

রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুরমা ব্যাবহার পদ্ধতি ঃ
*তিনি প্রতি রাতে চোখে সুরমা লাগাতেন।
*প্রথমে ডান চোখে পরে বাম চোখে লাগাতেন।
*প্রতি চোখে তিনবার করে সুরমা লাগাতেন।
*সুরমার জন্য তিনি সুরমাদানি ব্যাবহার করতেন।

সুরমার গুরুত্বঃ-
উপরোক্ত হাদীস নিয়ে গবেষণা করলে এটা সহসায় বুঝা যায় যে,রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু প্রতি রাতে ব্যাবহার করতেন এবং এটার জন্য আলাদা করে সুরমাদানি ছিলো তাহলে এটা অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এটা চোখে দিতেই হবে এতোটা বাধ্যতামূলক নয়।

অত্র হাদীসে সুরমা ব্যবহারের উপকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা বর্তমান বিজ্ঞানে হুবহু প্রমাণিত। এছাড়াও গবেষণায় আরো উপকারিতা পাওয়া গেছে সেগুলো হলো :
১. সর্বধরনের ছোয়াচে রোগ-জীবাণুকে ধ্বংস করে।
২. চোখের প্রবেশকৃত ধূলাবালী নিঃসরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে প্রভৃতি।
৩. অত্যন্ত কার্যকরী জীবাণুনাশক।
৪. চোখে জ্বালাপোড়া খুব কম হয়।
৫. অধিক ভ্রু উৎপন্ন হয়। আর এতেও অনেক কল্যান রয়েছে।

এই হাদীস থেকে আমরা আরো কিছু শিক্ষা পাই যেমন ইসলাম শুধুমাত্র কোন ধর্মের নাম নয় বরং এটি একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামী জীবন ব্যাবস্থার প্রতিটি ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর কাজে রয়েছে মানব জীবনের অনেক কল্যান।

চোখের মধ্যে সুরমা দেওয়ার মধ্যে যেমন আমরা অনেক কল্যাণ খুঁজে পাচ্ছি তেমনি ইসলামের প্রতিটি বিধান অনুযায়ী জীবনের পথ ধরে চললে আমাদের জীবনে অনেক সুফল বয়ে আনবে। এই জীবনের সমস্ত অশান্তি অকল্যাণ থেকে মুক্তি পাবে।

বর্তমান পৃথিবীর প্রান্তে প্রান্তে যে অশান্তি রয়েছে তা থেকে মুক্তি দিতে পারে একমাত্র ইসলামি শাসন ব্যবস্থা। কারণ যেই ইসলাম একটি ক্ষুদ্রতম কাজের মধ্যে এত বড় কল্যাণ রেখেছে সেই ইসলামী জীবন ব্যবস্থা অবশ্যই কল্যাণময়।

এই হাদীস থেকে আমরা যেভাবে সুরমা ব্যবহার করার ফজিলত, সুরমা ব্যবহারের উপকারিতা, সুরমা ব্যবহার পদ্ধতি জানতে পারি। ঠিক তদ্রুপ এই হাদিস আমাদেরকে জীবনের সর্বাঙ্গনে ইসলামিক জীবন ব্যাবস্থা পালনে উদ্বুদ্ধ করে। তাই আমাদের উচিত জীবনের সকল অঙ্গনে ইসলামকে প্রতিষ্ঠা করা ইসলামী বিধান মেনে চলা।

আব্দুল মজিদ মারুফ
অধ্যায়নরত- তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা