1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
  2. nabadiganterdak@gmail.com : Md Sabbir : Md Sabbir
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শিক্ষা সেমিনার জুম প্লাটফর্মের শুভ উদ্ভোধন হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন পালন হরিপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রাণীশংকৈলে আনন্দ র‍্যালী ও মিলাদ মাহ্ফিল পীরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের র‌্যালি,মিলাত ও দোয়া অনুষ্ঠিত মিথ্যা অভিযোগ করায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন – বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁওয়ের জঙ্গলে মিলল যুবকের গলাকাটা লাশ প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে কটূক্তি করায় ভুরুঙ্গামারীতে একজনকে থানায় সোপর্দ পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মুত্যু, আহত ৪

★ ভারসাম্যপূর্ণ মু’মিন জীবন গঠনে ইলম ও আমল ★ ( পর্ব -২)

✍️লেখিকা ঃ সুলতানা তাছলিমা রুপালি ✍️
  • সময় : সোমবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১২৭ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

গত পর্বে আলোচনা করা হয়েছে ইলম প্রাথমিক কথা ও ইলম কী।

আজকের আলোচনা হলো ইলমের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা।

 

 

 

** ইলম বা জ্ঞান হলো শক্তি। জ্ঞান ছাড়া এক মূহুর্তে চলা ও সম্ভব নয়। কর্মের প্রধান চালিকা শক্তি হলো ইলম বা জ্ঞান। কিন্তু জ্ঞান যদি নির্ভুল না হয় তাহলে কর্মের উদেশ্য ব্যর্থ হবেই।

 

যেমন – গাড়ীর ড্রাইভার যদি সঠিক জ্ঞানের অধিকারী না হয় তাহলে এক্সিডেন্ট করে গাড়ি ধ্বংসের সাথে সাথে নিজের জীবন ও হারাতে পারে। তাই সব বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

**বৃষ্টি যেমন আসমান থেকে নাজিল হয় তেমনি দ্বীনি ইলমও আসমান থেকে নাজিল হয়। – দ্বীনি ইলম বৃষ্টির ন্যায়। বৃষ্টির কারণে জমিন যেভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হয়। তেমনি দ্বীনি ইলম অর্জনের কারণেই মানুষের সব নৈতিক ও মানবিক গুণগুলো অর্জিত হয়।

 

 

 

** ইমান ও ইলম একদিকে যেমন মুসলমানদের শান্তির উৎস ঠিক অপরদিকে বাতিলের এটিই ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার তাই রাসুল সাঃ ও জ্ঞানার্জন ও বিতরণের কাজকে সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দিয়েছেন।বদর যুদ্ধে মুসলমানদের হাতে প্রতিপক্ষের ৭০ জন যোদ্ধা বন্দী হয়। তারা পড়ালেখা জানতো, মদীনাবাসী যা জানতো না। বন্দীদের মধ্যে মুক্তিপণ দেবার সামর্থ্য ছিল না

 

রাসুল সাঃ তাদের প্রত্যেকের নিকট মদীনার ১০ জন তরুণকে সোপর্দ করেন লেখা শিখানোর জন্য এটি ছিল তাদের মুক্তিপণ।

 

 

 

রাসুল সাঃ সবাইকে উৎসাহিত করে বলতেন – ” জ্ঞান হারানো ধন। তাই যেখানে পাও তা কুড়িয়ে নাও।” সেই সময় পুরুষ সাহাবিদের পাশাপাশি মহিলা

 

সাহাবিরাও জ্ঞানার্জন সমান তালে আগাতে থাকেন।

” আয়েশা রাঃ বলেন- ” আনসার মহিলারা সব চেয়ে ভালো মহিলা। দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনে লজ্জা তাদেরকে বিরত রাখে না। ”

 

 

 

পুরুষ সাহাবীদের পাশাপাশি মহিলা সাহাবীরাও অনেক হাদিস বর্ণনা করেন। হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবিদের মধ্যে হযরত আয়েশা রাঃ এর স্থান ছিল অনেক উচ্চে।

 

 

 

 

তিরমিজি শরীফের হাদিসে এসেছে – ” ইসলামের একজন সঠিক জ্ঞানের অধিকারী ব্যক্তি শয়তানের কাছে হাজারো অজ্ঞ ইবাদতগুজারের চাইতে ভয়ংকর। ”

জ্ঞানী ব্যক্তিকে শয়তান ও ভয় পাই। তাইতো হযরত আলী (রাঃ) -কে দেখলে শয়তান উল্টাদিকে দৌড় দিত।

 

 

 

আল্লাহ তায়ালা সুরা তওবার ১২২ নং আয়াতে ঘোষণা করেছেন – ” তাদের প্রত্যেক দল বা গোএ থেকে একটি অংশ বের হয় না কেন, যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে এবং যখন তারা তাদের কাছে ফিরে আসে, তখন যেন তারা সতর্ক করে। ”

 

 

 

ইলম বা জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব , তাৎপর্য সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে হবে মুসলিম জাতিকে।আজ ও মুসলিম জাতি অহীর জ্ঞান ধারণ করার মাধ্যমে মানব সমাজকে বিজয়ী করার দ্বায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারবে। অতীতের মতোই রাষ্ট্রেশক্তির অধিকারী হয়ে মানব জাতির নেতৃত্বের মর্যাদা পুনরুদ্ধারে এগিয়ে যেতে পারবে। সেই সোনালী যুগের মানুষের মতো ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগতভাবে তারাও সফল হতে পারবে।

 

 

 

তাই মানবজাতির মধ্যে ওহীর জ্ঞানসমৃদ্ধ একদল মানুষ সকল যুগে গঠে তোলা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা নেতৃত্বের দ্বায়িত্ব পালন করবে তারা ওহীর জ্ঞানে আলোকিত না হলে মানব সমাজের কেমন দুর্দশা হয় আধুনিক বিশ্ব তার বাস্তব প্রমাণ।

 

 

 

সেই সাথে সঠিক আমলের চর্চা ও মু’মিন জীবন গঠনের জন্য ওহীর জ্ঞান বা ইলম এর বিকল্প আর কিছু হতে পারে না।

 

 

মুয়াজ ইবনে জাবাল ( রাঃ) বলেন, তোমরা জ্ঞান অর্জন কর। কারণ জ্ঞান অর্জন হলো আল্লাহভীতি, জ্ঞানের অন্বেষণ হলো ইবাদত, পঠন – পাঠন হলো তাসবীহ পাঠ, গবেষণা হলো জিহাদ, শিক্ষাদান হলো সাদকা, উপযুক্ত ব্যক্তির জন্য তা ব্যয় করা হলো নৈকট্য, সে একাকীত্বে সঙ্গী, নির্জনে বন্ধু, দ্বীনের ব্যাপারে পথ প্রদর্শক, স্বচ্ছতা ও অভাব অনটনে সাহায্যকারী, বন্ধুদের সাথে অবস্থান কালে মন্ত্রদাতা,এবং ঘনিষ্ঠজনদের সাথে থাকার সময় অতি ঘনিষ্ঠ।

এই জ্ঞান জান্নাতের পথের আলোকবর্তিকা।

 

 

 

আল্লাহ এর দ্বারা বহু জাতিকে উন্নত করে এবং সত্য ও কল্যাণে তাদের নেতৃত্ব ও পথ প্রদর্শকের আসন দান করেন। ফলে কল্যাণের পথে জ্ঞানী ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করা হয় এবং তাদের কর্ম ও আচরণ গভীরভাবে তাকিয়ে দেখা হয়।

 

ফেরেস্তামন্ডলী তাদেরকে ভালোবাসেন এবং ডানা দিয়ে তাদেরকে স্পর্শ করে। সতেজ ও শুষ্ক সকল বস্তু তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। এমনকি সাগরের মাছ, হিংস্র ও গৃহপালিত জীবজন্তু এবং আকাশ ও তারাকারাজি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে।

 

 

 

জ্ঞান হলো ইমাম তুল্য, আমল হলো অনুসারী। সৌভাগ্যবানরা ওহীর জ্ঞান অর্জন করে আর হতভাগারা তা থেকে বঞ্চিত হয়। ”

 

 

এককথায় ইসলামিক জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমদের জন্য গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা অনেক।

তাই আসুন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়কে অপচয় ও খারাপ কাজে না লাগিয়ে ইসলামিক জ্ঞানে জ্ঞানী হয়।

প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ঘন্টা জ্ঞান অর্জন করার জন্য বের করি।

আল্লাহ আমাদের সকলকে ইসলামের সঠিক জ্ঞান অর্জন করার তাওফিক দিন।

 

 

 

👉আগামী পর্ব আসা পর্যন্ত সকলকে জাঝাকাল্লাহু খাইর 👈

 

✍️লেখিকা ঃ সুলতানা তাছলিমা রুপালি ✍️

অধ্যয়ণরত ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা