1. admin@dainiknabadiganterdak.com : admin :
  2. nabadiganterdak@gmail.com : Md Sabbir : Md Sabbir
বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম:
উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় শিক্ষা সেমিনার জুম প্লাটফর্মের শুভ উদ্ভোধন হরিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন পালন হরিপুরে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে রাণীশংকৈলে আনন্দ র‍্যালী ও মিলাদ মাহ্ফিল পীরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর ৭৫তম জন্মদিন উদযাপন প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে ছাত্রলীগের র‌্যালি,মিলাত ও দোয়া অনুষ্ঠিত মিথ্যা অভিযোগ করায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন – বেলাল উদ্দিন ঠাকুরগাঁওয়ের জঙ্গলে মিলল যুবকের গলাকাটা লাশ প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর নিয়ে কটূক্তি করায় ভুরুঙ্গামারীতে একজনকে থানায় সোপর্দ পঞ্চগড়ে বজ্রপাতে এক যুবকের মুত্যু, আহত ৪

🔷⭕জীবনে সফলতা আনার কৌশল⭕🔷

🖌️এম আব্দুল মজিদ মারুফ
  • সময় : বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১
  • ৩৭৭ বার পঠিত
সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জীবনে সফলতা আনার কৌশল

এম আব্দুল মজিদ মারুফ

 

আজ আমরা এমন একটি সময়ে অবস্থান করছি যখন মানুষ নিজেকে নিখুঁত হিসাবে উপস্থাপন করতে চায়। নিজেকে সবচেয়ে ভালো হিসাবে উপস্থাপন করতে সকলেই পছন্দ করে। আর সেজন্য সকলেই অন্যের দোষ ত্রুটি বের করতে তৎপর থাকে,নিজেকে নিয়ে মানুষ আর ভাবে না।অথচ এটি দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে নিজেকে নিয়ে না ভাবলে সফলতা কখন আশা করা যায় না।

 

নিজের দোষ সংশোধন না করে না করে অন্যের দোষ সংশোধন করতে চাওয়া নিরেট বোকামি ছাড়া কিছু নয়।

 

আরবী একটি প্রবাদে এভাবে বর্নিত আছে যে

 

أبصر الناس من نظر إلى عيوبه

“সবচেয়ে দূরদৃষ্টি সম্পন্ন বা বিচক্ষণ মানুষ হল ঐ ব্যক্তি যে নিজের দোষ-ত্রুটি দেখে।”

 

আমরা তো সকলেই নিজেকে বিচক্ষণ হিসাবে উপস্থাপন করতে চাই, সফলভাবে নিজেকে দেখতে চাই সেক্ষেত্রে নিজের দোষ নিজে বের করার অভ্যাস আমাদের করতে হবে। আর এই কাজকেই তথা নিজের মধ্যে থাকা সকল দোষ ত্রুটি, ভালো-মন্দ ইত্যাদি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করাকেই বলা হয় আত্মসমালোচনা। সফলতার জন্য অন্যতম প্রধান কাজ হলো আত্মসমালোচনায় মনোনিবেশ করা।

 

[(আমি আত্মসমালোচনা আলোচনা করার পর ধারাবাহিক ভাবে সফলতা অর্জনের বাকি কাজ গুলো আলোচনা করার চেষ্টা করবো)]

 

🟤আত্মসমালোচনার গুরুত্ব:

 

ব্যাক্তি সংশোধন ও আত্ম সংশোধনের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল, আত্মসমালোচনা বা আত্মপর্যালোচনা। কোন ব্যাক্তি যদি নির্জনে-একান্ত একাকীত্বে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য, করণীয়-বর্জনীয়, সফলতা-ব্যর্থতা এবং দোষত্রুটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা ও হিসাব-নিকাশ করে তাহলে তার কাছে তার নিজের ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরা পড়বে। ধরা পরবে তার কাজ কর্মের সমস্ত তালিকা। একনজরে দেখতে পাবে সফলতা ও বিফলতার অংশ।

 

আল্লাহ তাআলা প্রতিটি মানুষকে বিবেক নামক এটি আয়না দিয়েছেন। এই আয়নার সঠিক ব্যবহার আমাদের একান্ত কর্তব্য। কেননা আল্লাহ তায়ালা বলেন

وَ لَقَدْ ذَرَاْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِیْرًا مِّنَ الْجِنِّ وَ الْاِنْسِ١ۖ٘ لَهُمْ قُلُوْبٌ لَّا یَفْقَهُوْنَ بِهَا١٘ وَ لَهُمْ اَعْیُنٌ لَّا یُبْصِرُوْنَ بِهَا١٘ وَ لَهُمْ اٰذَانٌ لَّا یَسْمَعُوْنَ بِهَا١ؕ اُولٰٓئِكَ كَالْاَنْعَامِ بَلْ هُمْ اَضَلُّ١ؕ اُولٰٓئِكَ هُمُ الْغٰفِلُوْنَ

 

আর এটি একটি অকাট্য সত্য যে, বহু জ্বীন ও মানুষ এমন আছে যাদেরকে আমি জাহান্নামের জন্যই সৃষ্টি করেছি। তাদের হৃদয় (বিবেক) আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না। তাদের চোখ আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না। তাদের কান আছে, কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা পশুর মত, বরং তাদের চাইতেও অধম। তারা চরম গাফলতির মধ্যে হারিয়ে গেছে।

 

আমাদের যেই বিবেক আছে তা দিয়ে উপলব্ধি করতে হবে,করতে হবে আত্মাসমালোচনা। যেহেতু এই আয়াতের আলোচনা নয় তাই এখানে এর ব্যখ্যা করছি না শুধু এটা আমাদের খেয়াল করা উচিৎ আমাদের বিবেক দিয়ে নিজেকে ভাবতে হবে।

 

তাই তো উমর ইবনুল খাত্তাব রা. বলতেন:

حَاسِبُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا وَزِنُوا أَنْفُسَكُمْ قَبْلَ أَنْ تُوزَنُوا فَإِنَّهُ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ فِي الْحِسَابِ غَدًا أَنْ تُحَاسِبُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ ، وَتَزَيَّنُوا لِلْعَرْضِ الأَكْبَرِ ، يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ

“তোমরা নিজরা নিজেদের হিসাব নাও (পরকালে) হিসেবের সম্মুখীন হওয়ার পূর্বে এবং তোমরা নিজেরা নিজেদের মেপে নাও (পরকালে) তোমাদেরকে মাপার পূর্বে। কেননা, আজকের তোমার এই নিজে নিজে হিসাব-নিকাশ করাটা আগামী কালকে হিসাব দেয়ার চেয়ে অনেক সহজ। আর তোমরা বড় পরীক্ষা দেয়ার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত হও। (আল্লাহ তাআলা বলেন)

يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ

“সেদিন তোমাদেরকে (আল্লাহর সামনে হিসাব-নিকাশ ও প্রতিদান প্রদানের জন্য) পেশ করা হবে, তখন তোমাদের কোনকিছুই গোপন থাকবে না” (সূরা আল-হাক্কাহ, আয়াত নং ১৮)।”

 

(দ্রষ্টব্য : মুহাসাবাতুন নাফস-ইবনু আবিদ দুনিয়া, ২৯ পৃষ্ঠা, হাদিস নং ২/ আয-যুহুদ লিল ইমাম আহমাদ, ১২০ পৃষ্ঠা/ আবু নাঈম-হিলইয়া, ১ম খণ্ড, ৫২ পৃষ্ঠা/ ‍মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, ১৩ খণ্ড, ২৭০ পৃষ্ঠা/ মুআত্তা ইমাম মালিক, ২য় খণ্ড, ১১১ পৃষ্ঠা প্রভৃতি)

 

মানুষ হিসাবে নিজেকে বিবেকের আয়নায় দাড় করানোর কথটি আল্লাহ পাক অন্যস্থানে এভাবে বলেছেন যে

আল্লাহ তাআলা বলেন:

بَلِ الْإِنسَانُ عَلَىٰ نَفْسِهِ بَصِيرَةٌ

“বরং মানুষ নিজেই নিজের ব্যাপারে খুব ভালো জানে।” (সূরা কিয়ামাহ: ১৪)

 

তাই আমাদের কর্তব্য, নিজেদের দোষগুলো অনুসন্ধান করা এবং মৃত্যু দূত আমাদের দরজায় করাঘাত করার পূর্বে তওবা করে নিজেদেরকে সংশোধন করা। মৃত্যুদুত আসার আগে তওবা করবো কিন্তু এটা ভাবার বা করার কোন সুযোগ নেই যে আরো সময় আছে পরে তওবা করবো কেননা আমরা কেউ জানিনা কার মৃত্যু কখন হবে।

এর পরেও আমাদের অনেকের মনে এমন চিন্তা চেতনা আসা অসম্ভব কিছু নয় যে আত্মসমালোচনা কি করতেই হবে? এটি না করলে কি হবে না? আত্মসমালোচনা কিভাবে করবো এমন অনেক প্রশ্ন আসতে পারে আমাদের মনে আমাদের চিন্তা চেতনায়। সেগুলো আমরা ধারাবাহিক ভাবে সামনের দিকে জানবো। ইংশাআল্লাহ।।

(চলবে….)

 

এম আব্দুল মজিদ মারুফ

অধ্যয়নরত তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা


সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা